বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম। আলহামদুলিল্লাহ, আমরা আরও একটি বরকতময় রমজানের দ্বারপ্রান্তে। রমজান মানেই শুধু না খেয়ে থাকা নয়, বরং এটি হলো নিজের রুহকে রিচার্জ করার মাস। আপনি যদি এবার পরিকল্পনা করেন যে— “এই রমজান হবে আমার জীবনের সেরা রমজান”, তবে এই পোস্টটি আপনার জন্য।
রাত যখন গভীর হয়, তখন পুরো পৃথিবী যখন ঘুমে মগ্ন, আপনার রব তখন প্রথম আসমানে নেমে আসেন। রমজানের প্রতিটি রাতই তাহাজ্জুদের সুবর্ণ সুযোগ।
- তাহাজ্জুদ: সেহরির অন্তত ৩০ মিনিট আগে উঠে ৪ রাকাত নামাজ পড়ুন।
- দোয়া ও ইস্তেগফার: এই সময়টি চোখের পানি ফেলার শ্রেষ্ঠ সময়।
- বরকতময় সেহরি: রাসূল (সা.) বলেছেন, “তোমরা সেহরি খাও, কারণ সেহরিতে বরকত রয়েছে।”
ফজরের নামাজের পর ঘুমানোর অভ্যাস আমাদের রিজিক ও বরকত কমিয়ে দেয়। এই সময়টি হোক কুরআনের জন্য।
রমজানে কুরআন নাজিল হয়েছে, তাই এই মাসে আপনার প্রধান আমল হওয়া উচিত কুরআন তিলাওয়াত। আপনি যদি দৈনিক ১ পারা করে পড়েন, তবে ৩০ দিনে খতম হবে। তবে মনে রাখবেন, বুঝতে পড়ার সওয়াব অনেক বেশি।
আমরা যারা চাকরিজীবী বা ছাত্র, আমাদের রমজানের একটি বড় সময় কাটে বাইরে। কাজ করাও কিন্তু এক প্রকার ইবাদত যদি আপনার নিয়ত ঠিক থাকে।
- মুখকে গীবত এবং মিথ্যা থেকে হেফাজত করুন।
- কাজের ফাঁকে ফাঁকে ‘সুবহানাল্লাহ’, ‘আলহামদুলিল্লাহ’ পাঠ করুন।
- কারও ওপর রাগ করবেন না, যদি কেউ ঝগড়া করতে আসে তবে বলুন— “আমি রোজাদার”।
ইফতারের আগের মুহূর্তগুলো অত্যন্ত মূল্যবান। সারাদিন ক্ষুধার্ত থাকার পর আল্লাহর কাছে আপনার প্রতিটি মোনাজাত কবুল হওয়ার গ্যারান্টি থাকে এই সময়ে।
বিশেষ আমল: ইফতারের ১০ মিনিট আগে দস্তরখানে বসে পড়ুন এবং পরিবারসহ আল্লাহর বড়ত্ব বর্ণনা করুন। অতিরিক্ত ভাজাপোড়া খেয়ে শরীর ভারি করবেন না, কারণ রাতে তারাবিহ ও কিয়ামুল লাইল রয়েছে।
আপনার রমজানকে সফল করুন
আজ থেকেই একটি নোটবুক নিন এবং আপনার লক্ষ্যমাত্রাগুলো লিখে ফেলুন। আল্লাহ আমাদের সবাইকে এই রমজান থেকে সর্বোচ্চ কল্যাণ লাভ করার তৌফিক দান করুন। আমিন।
