
হার না মানা এক জোড়া জীর্ণ জুতো
শহরের ব্যস্ত এক মোড়ে বড় বড় দালান আর ঝলমলে দোকানের মাঝখানে ছিল ছোট্ট একটি মুচির দোকান। দোকানটির মালিক ছিলেন বৃদ্ধ রহমত চাচা। বয়স তাঁর সত্তরের কোঠায় হলেও হাতের কাজে ছিল অসাধারণ দক্ষতা।
বছরের পর বছর মানুষের ছেঁড়া জুতো সেলাই করতে করতে তাঁর হাত যেন জুতোর ভাষা বুঝতে শিখে গেছে। আশপাশের মানুষ তাঁকে সম্মান করত শুধু তাঁর কাজের জন্য নয়, বরং তাঁর ধৈর্য আর সহজ-সরল জীবনের জন্যও।
একদিন বিকেলে দোকানের সামনে এসে থামল একটি দামী গাড়ি। গাড়ি থেকে নেমে এল এক তরুণ। তার হাতে ছিল একটি ছেঁড়া স্পোর্টস জুতো।
“চাচা, এই জুতোগুলো কি ঠিক করা যাবে? না হলে মনে হয় ফেলে দিতে হবে।”
রহমত চাচা ধীরে ধীরে জুতোজোড়া হাতে নিয়ে দেখলেন এবং মৃদু হাসলেন।
“বাবা, জিনিস দামী হলেই তার মূল্য বাড়ে না। যত্ন আর মায়া থাকলে যেকোনো কিছুকেই আবার নতুন জীবন দেওয়া যায়।”
তিনি তরুণকে বললেন পরদিন এসে জুতো নিয়ে যেতে। সারারাত তিনি জুতোজোড়াটি যত্ন করে সেলাই করলেন, পরিষ্কার করলেন এবং পালিশ করলেন।
পরদিন যখন তরুণটি ফিরে এল, তখন সে নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিল না। জুতোজোড়া এত সুন্দরভাবে ঠিক করা হয়েছে যে মনে হচ্ছিল নতুন।
“চাচা, এটা কীভাবে সম্ভব? বড় বড় দোকানে গিয়েছিলাম, সবাই বলেছে এটা ঠিক করা যাবে না!”
রহমত চাচা জুতোর তলা দেখিয়ে বললেন—
“এখানে একটা ছোট পাথরের টুকরো আটকে ছিল। সেটাই ধীরে ধীরে চামড়া ছিঁড়ে দিয়েছে। সমস্যা বড় ছিল না, কিন্তু কেউ খেয়াল করেনি।”
তরুণটি সেদিন শুধু তার জুতো ফেরত পায়নি, পেয়েছিল জীবনের এক মূল্যবান শিক্ষা। আমরা অনেক সময় ছোট ছোট ব্যর্থতায় ভেঙে পড়ি, কিন্তু একটু ধৈর্য আর নিজের ভেতরের শক্তিকে বিশ্বাস করলে আবার ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব।
